শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। মানব জাতির উন্নতি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি নির্ভর করে শিক্ষার উপর। কুসংস্কার, অনাচার মুক্ত আলোকিত জাতি গঠনে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। সভ্যতার বিনির্মাণে ও পশ্চাদ পদতা থেকে উত্তোরণের পথে উদ্ভূত সংকট মোচনে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা একান্ত আবশ্যক। এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যুগে যুগে আলোকিত মানুষেরা নিজেদের জীবনকে উৎসর্গ করে ধরণীকে করেছেন বাসযোগ্য, স্বাপদ সংকুল ও জরাজীর্ণতাকে করায়ত্ব করে স্বর্গীয় সুধা বয়ে এনেছেন এ ধরণীতে। 

             এমনিতরো চেতনায় তাড়িত হয়ে নদীবন্দর কেন্দ্রীক অতি প্রাচীন সভ্য অঞ্চল ছায়া ঢাকা, পাখি ডাকা শ্যামল শোভায় আবৃত রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলাধীন মির্জাপুর ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী, নীলিমার নীল অঙ্গন দেউলপাড়া-ইসলামপুর এলাকায় ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই ”মির্জাপুর বছির উদ্দিন মহাবিদ্যালয়টি “

              শিক্ষার আলো বিস্তারে্ এই এলাকার ঐতিহ্য সর্বজন বিদিত। অতি প্রাচীন মির্জাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় যেটি ’মাইনর স্কুল’ নামে খ্যাত সেটি এই এলাকায়। এখানে রয়েছে একটি প্রাচীন উচ্চ বিদ্যালয়, একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি পাথমিক স্তরের সরকারী বালিকা বিদ্যালয়, সমাজ উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য দুটি সনামধন্য ক্লাব, একটি এতিমখানা, একটি সিনিয়র মাদ্রাসা, ১০ শয্যা বিশিষ্ট একটি আধুনিক স্বাস্থ্য-উপকেন্দ্র ও দুটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল সহ বিভিন্ন সেবা ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান।

                মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ এই এলাকায় অনেক উচ্চ শিক্ষিত মানুষের বাস। তাঁদের সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, সানুগ্রহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৯৪ সালে এই প্রতিষ্ঠানের সূচনালগ্নে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন কৃষি বিজ্ঞানী, মির্জাপুরের কীর্তিমান ব্যক্তিত্ব ডঃ মতলুবর রহমানের উদার হস্তের ছোঁয়ায় তাঁর পিতার নামে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে এই মির্জাপুর বছির উদ্দিন মহাবিদ্যালয়টি।

               সূচনা লগ্নে এই মহাবিদ্যালয়ের যে উপদেষ্টা পর্ষদ গঠিত হয়েছিল তার প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন বিশ্ব বরেণ্য পরমাণু বিজ্ঞানী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার স্বামী প্রয়াত ডঃ ওয়াজেদ মিয়া।

                এলাকার সুধী, যুব সম্প্রদায়, বিদ্যোৎসাহী ও সুশীল সমাজের মহানুভবতায় বিপুল উদ্যোমে যাত্রা করে এই বিদ্যাপীট। কিন্তু অল্পকালের মধ্যে যখন কলেজের সার্বিক ব্যয়ভার বহনকরা বিশেষতঃ শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান করা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াল তখনি পাঞ্জেরীরূপে আবির্ভূত হলেন মিঠাপুকুরের কৃতি সন্তান, পথিকৃত মিঠাপুকুরের রূপকার এইচ এন আশিকুর রহমান। তাঁর স্নেহ দৃষ্টির বদৌলতে অনতিবিলম্বে হয়ে গেল কলেজের এমপিও ভূক্তি। পরবর্তীকালে কলেজটিকে ডিগ্রী কলেজ করণের যে স্বপ্ন আপামর জনতার ছিল তারও বাস্তবায়ন রূপায়ন হলো মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় ১৯৯৯ সালে এইচ এন আমিকুর রহমানের বদান্যতায়।

                 প্রায় দশ বিঘা জমির উপর প্রতিষ্ঠিত সবুজে ঘেরা নিরিবিলি ও ছাত্র রাজনীতির অস্থিরতামুক্ত, সুযোগ্য শিক্ষকমন্ডলী ও গভর্ণিং বডি দ্বারা পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিনিয়ত জয় করে চলেছে এলাকাবাসীর মন।

                 সুশিক্ষিত সভ্য ও আলোকিত মানুষ গড়ার প্রত্যয়ে উজ্জীবিত মির্জাপুর বছির উদ্দিন মহাবিদ্যালয়টিতে রয়েছে গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত স্নাতক (পাস) শ্রেণীর বিভিন্ন কোর্সে পাঠদান করা হয়। এ প্রতিষ্ঠানটি একটি শক্ত নিয়মনীতি অনুযায়ী গঠিত গভর্ণিং বডি দ্বারা পরিচালিত। গভর্ণিং বডি প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত যাবতীয় নীতি নির্ধারণ করে এবং সে সকল নীতি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। উক্ত নীতি সমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কলেজ প্রশাসনিক কাঠামোকে নিম্নরূপে বিন্যাস্ত করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠান প্রধান : তিনি হচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী প্রধান। তিনি গভর্ণিং বডির সিদ্ধান্তের আলোকে প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যাবলী পরিচালনা করেন।

উপ-কমিটি : প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ও উন্নয়ন মূলক কার্যাবলী পরিচালনার জন্য রয়েছে :- পরীক্ষা উপ-কমিটি, অর্থ উপ-কমিটি, আসবাবপত্র মেরামত ও সংস্কার উপ-কমিটি।

শিক্ষক মন্ডলী : প্রতিটি বিষয়ে এক বা একাধিক শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁরা উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক শ্রেণীর সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ছাত্র-     ছাত্রীদের ক্লাস টেস্ট, মাসিক পরীক্ষা, সাময়িক পরীক্ষা, বার্ষিক পরীক্ষা, প্রাক্ নির্বাচনী ও নির্বাচনী পরীক্ষা সুচারুরূপে গ্রহণ করে পরীক্ষার ফলাফল সহ পাঠোন্নতির  মূল্যায়নপত্র অভিভাবকদের নিকট পাঠিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য করণিয় ঠিক করেন। এছাড়া নির্বাচনী পরীক্ষার পর বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বিশেষ কোচিং দিয়ে যোগ্য পরীক্ষার্থীরূপে তৈরী করেন।

             সর্বোপরি কলেজের দক্ষ পরিচালনা পর্ষদ, সুযোগ্য শিক্ষক মন্ডলী, কর্মচারী এবং সর্ব সাধারণের আন্তরিক ভালবাসায় প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে চলেছে আধুনিকতার ছাপে সমৃদ্ধির  পথে।